মে ৫, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
`মধুমাস` জ্যৈষ্ঠ শুরু হতে এখনো প্রায় ১১ দিন বাকি। এরই মধ্যে রাজশাহী মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাজারে রসালো ফল লিচু সীমিত আকারে উঠতে শুরু করেছে। তবে বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় এসব লিচুর দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।মৌসুমের একেবারে শুরুতে হওয়ায় এসব লিচুতে এখনো পুরো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমানে বাজারে আসা লিচুগুলো হালকা মিষ্টি ও টক স্বাদের। চিকিৎসকরা মানুষকে খালি পেটে লিচু না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং বিশেষ করে শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলছেন।
নগরীর তালাইমারী এলাকার দিনমজুর রহিম মিয়া জানান, বাজারে লিচুর দাম শুনে তিনি তা কিনতে পারেননি। দৈনিক ৬০০ টাকা আয় করা রহিম মিয়ার পক্ষে ১০০টি লিচু ৫০০ টাকা দিয়ে কেনা প্রায় অসম্ভব। লিচু কিনলে সংসারের অন্যান্য খরচ চালানো কঠিন হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
রাজশাহীর বাজারে লিচুর দাম বেশি হওয়ায় রহিম মিয়ার মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত বহু মানুষ একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।বাজারে আসা লিচুর দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র গরম এবং কম ফলন হওয়ায় বাজারে এর সরবরাহ কম। শহরের সাহেব বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি লিচু ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০টি লিচুর দাম পড়ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া এবং প্রচণ্ড গরম লিচু উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফল সঠিকভাবে বড় হয়নি। এছাড়া খরার কারণে অনেক লিচু পরিপক্ব হওয়ার আগেই ফেটে গেছে। ফলে বাজারে বিক্রয়যোগ্য ফলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সাহেব বাজারের বিক্রেতা হায়দার আলী জানান, আগে দিনে ৫ হাজার লিচু বিক্রি করলেও এখন ২ হাজার বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, লিচু এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। পূর্ণাঙ্গভাবে বাজারজাত শুরু হতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। তিনি মনে করেন, মৌসুমের প্রথম লিচু হওয়ায় বিক্রেতারা কিছুটা বেশি দাম নিচ্ছেন। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম পর্যায়ক্রমে কমে যাবে। কৃষি কর্মকর্তারা আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন