রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিঘায় ২৮ মণ ফলন গমের নতুন ৫ জাত নিয়ে খুশি চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ৫, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

বিঘায় ২৮ মণ ফলন গমের নতুন ৫ জাত নিয়ে খুশি চাষিরা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা গমের পাঁচটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী এসব জাতের মাধ্যমে দেশে গমের উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে গমের বার্ষিক আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

ইন্সটিটিউট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে গমের চাহিদা ৮০ থেকে ৮২ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন। ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর ২৩ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার ৬৮ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন গম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। 

নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর নামকরণ করা হয়েছে বিডাব্লিউএমআরআই-১, বিডাব্লিউএমআরআই-২, বিডাব্লিউএমআরআই-৩, বিডাব্লিউএমআরআই-৪ এবং বিডাব্লিউএমআরআই-৫। 

এগুলো হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৫ থেকে ৬ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। যেখানে বর্তমানে দেশে গমের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.৮৬ মেট্রিক টন।চলতি মৌসুমে সারা দেশের ৫ হাজার ৩০০ জন কৃষকের মাঝে এসব নতুন জাতের বীজ প্রদর্শনী ও প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কৃষকরা জানিয়েছেন, নতুন জাতের গমে উৎপাদন খরচ কম কিন্তু ফলন অনেক বেশি। দিনাজপুর সদর উপজেলার রামডুবি এলাকার কৃষক দবিরুল ইসলাম জানান, আগে প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৮ মণ ফলন হতো, কিন্তু নতুন জাত চাষ করে এখন ২৫ থেকে ২৮ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

নশিপুর এলাকার কৃষক সঞ্চয় কুমার জানান, নতুন জাতে সেচ ও সার কম লাগে। মাত্র তিনবার পানি সেচ দিতে হয়েছে। এছাড়া রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। ভালো ফলন দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও আগামীতে এই গম আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. মাহফুজ বাজ্জাজ জানান, উদ্ভাবিত ৫টি জাতই জিংক সমৃদ্ধ এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী। এগুলো স্বল্পমেয়াদী হওয়ায় একই জমিতে বছরে ৩ থেকে ৪টি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, নতুন জাতগুলো তাপ, লবণাক্ততা ও খরা সহিষ্ণু। ফলে দেশের চর অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও বরেন্দ্র অঞ্চলেও খুব সহজে গম চাষ করা যাবে।

প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৮টি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। ড. বাজ্জাজ উল্লেখ করেন, এই জাতগুলো বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের গম উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এতে বার্ষিক আমদানি খরচ সাশ্রয় করে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। সংবাদ শেষ।