জুন ১১, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিখাত। বিভিন্ন কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা যেমন আগ্রহ হারাচ্ছেন, তেমনি প্রান্তিক চাষিদের মাথায় ঋণের বোঝা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ফসল উৎপাদন এখন সময়ের দাবি।
এমন একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি হলো মালচিং। অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বেড তৈরি করে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে সূর্যের আলো ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করে কম খরচে ফসল উৎপাদনই এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য।এই পদ্ধতিতে আবাদ করলে আগাছা কম হয়, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকে এবং সেচ খরচও অনেক কমে যায়। বিশেষ করে শীত ও বর্ষা মৌসুমে এই পদ্ধতিতে আবাদ করে কৃষকরা উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
মালচিং পদ্ধতিতে শুরুতে কিছুটা খরচ বেশি হলেও পরবর্তীতে তা অনেক কমে আসে। এতে আগাছা পরিষ্কারের ঝামেলা নেই এবং ফসল তোলার আগ পর্যন্ত বারবার সার দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।কৃষকরা জানান, জমি তৈরির সময় দুই পাশ থেকে মাটি কেটে দেড় ফুট চওড়া ও ৮-১২ ইঞ্চি উঁচু বেড তৈরি করা হয়। এরপর মালচিং পেপার দিয়ে তা ঢেকে দেওয়া হয়। মালচিং পেপারের কালো রঙের দিকটি মাটির দিকে এবং রূপালি দিকটি ওপরের দিকে থাকে। পরে পেপারের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত করে বীজ বা চারা রোপণ করা হয়। গাছ কিছুটা বড় হলে তিন ফুট উচ্চতায় বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় এক লাখ টাকা, আর উৎপাদিত মরিচ বাজারে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব।
পঞ্চগড় জেলা সদরের চানপাড়া গ্রামে তালমা নদীর পাড়ে ব্যবসায়ী ও কৃষক সারোয়ার হোসেন পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকার মতো। তিনি আশা করছেন, এই জমি থেকে তিনি লক্ষাধিক টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে পারবেন। সফল হলে আগামীতে তিনি আরও বড় পরিসরে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করবেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুন্নবী জানান, কৃষকরা এখন মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে ভালো সফলতা পাচ্ছেন। এই পদ্ধতিতে মরিচ, বেগুন, টমেটো, লাউ ইত্যাদি চাষ করে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তাঁরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাঁচ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমে মরিচ আবাদ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা, কারণ বৃষ্টি থাকায় নিচু এলাকার ক্ষেতের মরিচ গাছ মরে গেলেও এই পদ্ধতিতে গাছ সজীব থাকে এবং বাজারে দামও ভালো পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন