জুন ১৩, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
দেশের উত্তর জনপদে তুলা চাষ সম্প্রসারণের নানামুখী সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক দিনব্যাপী এক বিশেষ আঞ্চলিক কর্মশালা অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনাজপুর সদরের হর্টিকালচার সেন্টার মিলনায়তনে সরকারি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আগত বিশেষজ্ঞরা দেশের বস্ত্রশিল্পের কাঁচামালের জোগান দিতে দেশীয় উৎপাদনে কৃষকদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।দিনব্যাপী এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার খামারবাড়ির তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ডক্টর মোহাম্মদ রেজাউল আমিন।দিনাজপুর সদর তুলা গবেষণা প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জাফর আলীর সার্বিক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৃষিবিদ ডক্টর সাইফুল হুদা।
এছাড়া গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, কৃষিবিদ ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম এবং ডক্টর হাসানুল হক সভায় তুলা চাষের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ঠাকুরগাঁও জোনের কটন ইউনিট অফিসার স্বদেশ চন্দ্র রায়সহ মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কৃষকদের পক্ষ থেকে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় চাষি আকবর আলী, খলিলুজ্জামান এবং কাজী মিজানুর রহমান।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বর্তমানে তুলা উন্নয়ন বোর্ডে প্রয়োজনীয় জনবলের বেশ ঘাটতি রয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সংখ্যা কম থাকায় গবেষণার কাজ তুলনামূলক ধীরগতিতে চলছে। এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল করতে বেশি বেশি বাস্তবমুখী গবেষণার মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবন করে এগিয়ে নিতে হবে, যার ফলে দেশ ও সাধারণ কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন। তুলা অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল হলেও মাঠপর্যায়ের সাধারণ কৃষকদের মাঝে এই ইতিবাচক বার্তাটি এখনো সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, সম্প্রসারণ কর্মী এবং কটন জোনের তালিকাভুক্ত চাষিসহ সর্বমোট ৭৮ জন প্রতিনিধি এই কর্মশালায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চালনা করেন স্থানীয় কৃষিবিদ শাহানা ইয়াসমিন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন