রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নারী মানেই রান্নাবান্না নয়‍‍`: খামার পরিচালনা করে সফল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম

নারী মানেই রান্নাবান্না নয়‍‍`: খামার পরিচালনা করে সফল

ছবি: দিনাজপুর টিভি

সমাজের গতানুগতিক ধারণা ভেঙে খামার পরিচালনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন একদল উদ্যোক্তা নারী। করোনার সময় বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্য নিয়ে যে সম্মিলিত খামারটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ অনেক নারীর কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে তারা কোনো বাধা বা সামাজিক সমালোচনাকে পাত্তা দেননি।এখন তাদের খামারে গরু, হাঁস, মুরগি ও কবুতরসহ বিভিন্ন প্রাণীর সমন্বিত চাষ হচ্ছে।

শুরুতে এলাকার মানুষের নানা সমালোচনা থাকলেও কাজের মান ও সাফল্যে এখন সবার ভুল ধারণা ভেঙেছে। খামারের উদ্যোক্তারা জানান, মার্কেটিং থেকে শুরু করে খাবার কেনা ও পণ্য বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি নারীরাই পরিচালনা করছেন। তাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেকে এখন নিজেরাই হাঁস-মুরগির খামার গড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।

খামারে ইনকিউবেটর মেশিনের মাধ্যমে হাঁস, টার্কি, দেশি ও সোনালীসহ বিভিন্ন জাতের মুরগির বাচ্চা ফোটানো হয়। পাশাপাশি ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটাতেও ভূমিকা রাখছে এই খামার। প্রতিকূল আবহাওয়া বা দুর্যোগের সময় প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে চিকিৎসা ও পরামর্শ সহায়তা নিয়ে তারা খামারটি সচল রাখছেন। তবে সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্য মূল্য না পাওয়াকে তারা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

উদ্যোক্তারা মনে করেন, নারী মানেই শুধু ঘর সংসার সামলানো—এই পুরোনো ধ্যান-ধারণা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। নারীরা চাইলে দেশ পরিচালনা থেকে শুরু করে কৃষি ও খামার ব্যবস্থাপনায় সমান দক্ষতা দেখাতে পারেন। তাদের লক্ষ্য কেবল নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়া নয়, বরং সমাজে নারীদের সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে কেউ তাদের ছোট করে দেখার সুযোগ না পায়।

সম্মিলিত এই খামারটি করোনাকালীন সময়ে অসহায় মানুষদের সাহায্যের উদ্দেশ্য থেকে যাত্রা করলেও, এখন তা টেকসই কর্মসংস্থানের মডেলে রূপ নিয়েছে। উদ্যোক্তারা এখন সম্মানের সঙ্গে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং অন্যদেরও স্বনির্ভর হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন।