রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রাকৃতিকভাবে হাঁস পালন করে সফল উদ্যোক্তা হামিদ মিয়া

কৃষি ডেস্ক

আগস্ট ১, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

প্রাকৃতিকভাবে হাঁস পালন করে সফল উদ্যোক্তা হামিদ মিয়া

সামান্য পুঁজি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে নিজের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের রামেস্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা হামিদ মিয়া। দীর্ঘ দুই দশকের টানা পরিশ্রমে মাত্র আশিটি হাঁস থেকে বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে সাত শটিতে। গ্রামীণ জনপদে এই হাঁস পালনই এখন তার পরিবারের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

কঠোর ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি আজ সফল এক কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।দুই দশক আগে ছোট পরিসরে শুরু করলেও নানা প্রতিকূলতা ও লোকসানের মুখেও কখনো দমে যাননি তিনি। অভিজ্ঞতা ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে খামারকে ধীরে ধীরে বড় করেছেন। বর্তমানে তার খামারে উৎপাদিত প্রতিদিনের ডিম থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। বাজারদর সাপেক্ষে প্রতিদিন দুই শ পঞ্চাশ থেকে তিন শ ডিম বিক্রি হয়, যার আর্থিক মূল্য তিন হাজার দুই শ পঞ্চাশ থেকে তিন হাজার সাত শ টাকার কাছাকাছি।

হামিদ মিয়ার খামারের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যনির্ভর খোলা পদ্ধতির খামার। ধান কাটার পর কৃষকদের ফেলে রাখা জমিতে হাঁসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তারা শামুক ও পোকামাকড়ের মতো প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠে। এর ফলে বাণিজ্যিক ফিডের বাড়তি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় অনেকটাই কমে যায়। প্রতিদিন ভোরে হাঁস মাঠে ছাড়া এবং সন্ধ্যায় খামারে ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়েই তার দীর্ঘ কর্মব্যস্ত দিনের সূচনা ও সমাপ্তি ঘটে।

এই হাঁস খামারের আয়ের ওপর ভরসা করেই চলছে তার পুরো সংসার এবং সন্তানদের উচ্চশিক্ষার খরচ। তার বড় মেয়ে বর্তমানে নার্সিং তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত, যার জন্য প্রতি মাসে সাড়ে আট হাজার টাকা এবং সেমিস্টারপ্রতি প্রায় সত্তর হাজার টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে ছোট ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করছে, যার মাসিক খরচ সাড়ে তিন হাজার টাকা।

খামারের কাজে তার স্ত্রীও নিয়মিত সহযোগিতা করে থাকেন বলে তিনি জানান। স্থানীয় সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন জানান, হামিদ মিয়ার মতো পরিশ্রমী উদ্যোক্তারা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দারুণ অবদান রাখছেন।