আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ মলা মাছ চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। উপজেলার বিকে নগর ইউনিয়নের জেলেরা পুকুরে বাণিজ্যিক চাষের পাশাপাশি ব্রুড ব্যাংক বা প্রজননক্ষম মাছের সংগ্রহশালাও গড়ে তুলেছেন। কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে হারিয়ে যেতে বসা এই দেশীয় মাছ এখন বড় পরিসরে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মাত্র ৮০ শতাংশ জমিতে তিন মাসের ব্যবধানে মাছ আহরণ করা হচ্ছে।গত নয় মাসে এই পরিমাণ জমি থেকে মোট ৪০ মণ মলা মাছ উৎপাদন করেছেন চাষিরা। বাজারে প্রতি কেজি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। বৃষ্টির দিনে বা মাছের আকার একটু বড় হলে দাম প্রতি কেজিতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
খাবার খরচ অত্যন্ত কম ও মাছ দ্রুত বড় হওয়ায় চাষিদের লাভ বেশি থাকছে। বছরে দুই থেকে তিনবার পুকুর থেকে মলা মাছ ধরে সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারছেন তারা।পিকেএসএফ-এর অর্থায়নে এবং এসডিএস-এর সহযোগিতায় পুকুরে এই বাণিজ্যিক চাষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ছোট মাছ বাজারে তোলার সাথে সাথেই বিক্রি হয়ে যায়। মলা মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও জিংক থাকায় চিকিৎসকরা প্রায়ই রোগীদের এটি খাওয়ার পরামর্শ দেন।
এসডিএস-এর কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, কার্প বা অন্যান্য মাছের মতোই পুকুর প্রস্তুত করে মলা মাছ একক বা মিশ্রভাবে চাষ করা যায়।প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে এটি পানির ভাসমান উদ্ভিদকণা ও জৈব পদার্থ খায়। পাশাপাশি সম্পূরক খাদ্য হিসেবে বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন সস্তা কুঁড়া বা ভুসি পুকুরে ছিটিয়ে দিলে মাছের দ্রুত বংশবিস্তার ঘটে।সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ব্রুড ব্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে খামারিদের নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রজননক্ষম মাছ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন