রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পরিবারের সহযোগিতা ও পরিশ্রমে আজ আমি সফল উদ্যোক্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ৬, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

পরিবারের সহযোগিতা ও পরিশ্রমে আজ আমি সফল উদ্যোক্তা

ছবি : সংগৃহীত

আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গরুর খামার গড়ে মাদারীপুরের সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নুসরাত জাহান সাথী। গরু পালন ও বিক্রির মাধ্যমে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী হননি তিনি, বরং নিজের এলাকায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের মাঝে আত্মকর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক পশুপালনের আগ্রহ নতুন করে তৈরি করছে।

মাদারীপুর শহরের সৈয়দারবালী এলাকার বাসিন্দা কাজী এমারত হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর কালকিনি উপজেলার রাজদী এলাকার বাসিন্দা নুসরাত শ্বশুরবাড়িতে এসে গরু পালনের পরিবেশ দেখেন।পরিবারের এমন আবহ তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। পরে স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় ২০১৯ সালে বাড়ির সামনেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘আমীরা ডেইরি ফার্ম’। শুরুতে মাত্র দশটি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও অভিজ্ঞতার অভাবে প্রথম বছর কয়েকটি গরু মারা যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। 

তবে নুসরাত ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েননি। খামার ব্যবস্থাপনা, গরুর সুষম খাদ্য, নিয়মিত পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তিনি নতুনভাবে কাজ শুরু করেন।ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে এবং একসময় সেখানে চল্লিশটিরও বেশি গরু পালন করা হয়। কয়েক বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় সাথী গত কোরবানির ঈদে এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের গরু বিক্রি করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তার খামারে নয়টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি দুগ্ধবতী গাভী। তিন সন্তানের জননী হওয়ায় ছোট সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি তিনি খামারের কাজও সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।

গরুর পাশাপাশি তিনি হাঁস, মুরগি ও কবুতরও পালন করছেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় আশিটি হাঁস, চল্লিশটি মুরগি এবং বিশ জোড়া কবুতর রয়েছে। এসব থেকে বাড়তি আয় আসার ফলে তিনি একটি সমন্বিত প্রাণিসম্পদ খামার গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। তবে খামারিদের জন্য গো-খাদ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে খামার থেকে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব। মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আছির উদ্দিন জানান যে উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও টিকাদানের মাধ্যমে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। নুসরাত জাহান সাথীর সাফল্য গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করবে বলে বিশিষ্টজনেরা আশা প্রকাশ করেছেন।