আগস্ট ৮, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
স্থানীয় চাহিদা সফলভাবে মিটিয়ে দেশব্যাপী বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মিঠা পানির মাছ উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে রাজশাহী বিভাগ। উৎপাদিত এসব মাছ এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত পঁচিশটি জেলায় নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও বাংলাদেশি প্রক্রিয়াজাত মাছের একটি বড় বাজার তৈরি হয়েছে, যার একটি বড় অংশ এই অঞ্চল থেকেই পাঠানো হয়।
রুই, কাতলা ও মৃগেলের মতো দেশীয় প্রজাতির ব্যাপক বাণিজ্যিক চাষ উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই বিভাগের আটটি জেলার চার লাখ উনপঞ্চচলিশ হাজার ছয়শ তিপ্পান্নটি পুকুরে বর্তমানে মাছ চাষ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দেড় লাখ মানুষ জড়িত রয়েছে এবং বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে।
স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত দেড় লাখ মেট্রিক টন মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে, যা প্রায় তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে নাটোর ও নওগাঁ জেলা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিন রাজশাহী থেকে পাঁচ শতাধিক ট্রাকে করে জীবন্ত মাছ দেশের নানা প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। পবা উপজেলার পারিলা গ্রামের মতো নির্দিষ্ট এলাকাগুলো থেকে প্রতিদিন শত শত মণ মাছ ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে পাঠানো হচ্ছে।
বিশেষ জলীয় ও অক্সিজেনযুক্ত পদ্ধতিতে জীবন্ত মাছ সরবরাহের এই অভিনব কৌশলের কারণে বাজারে এখানকার মাছের চাহিদা সর্বদা শীর্ষে থাকে।খাদ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মৎস্য দপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণের কারণে এই খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন