আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
সমাজের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে অনেকেই নিজের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। উচ্চ বেতনের লোভনীয় চাকরি, আরামদায়ক নাগরিক জীবন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ চিন্তাকে পেছনে ফেলে প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে কৃষিকাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত দুঃসাহসিক একটি পদক্ষেপ। সম্প্রতি তেমনই এক কৃষি উদ্যোক্তা নিজের ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকার পরও বিশাল অঙ্কের বেতনের আন্তর্জাতিক চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে এসে সম্পূর্ণ নতুন এক কৃষিভিত্তিক জীবনের সূচনা করেছেন এবং দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর কাছে তার সেই দীর্ঘ যাত্রার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
এক কোটি টাকার বেশি আর্থিক বিনিয়োগ এবং পরিবারের সদস্যদের অসম্মতি থাকা সত্ত্বেও কৃষি ও কৃষকের প্রতি গভীর ভালোবাসার টানেই মূলত তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই উদ্যোক্তা নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ফিলিপাইন থেকে রিজেনারেটিভ এগ্রিকালচার বা পুনরুৎপাদনশীল কৃষির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। সেই জ্ঞান দেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ থেকেই তিনি মূলত মাঠে নেমেছেন এবং প্রাথমিকভাবে পাঁচ একর জমির ওপর একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছেন।
খামারটিতে পরীক্ষামূলকভাবে ভুট্টা, স্ট্রবেরি ও গমসহ বিভিন্ন প্রচলিত ফসলের চাষাবাদ করা হচ্ছে, যাতে করে সাধারণ কৃষকরা তা দেখে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। কৃষকদের লাভজনকভাবে ফসল উৎপাদনে সহায়তা করার লক্ষ্যে বীজ, কীটনাশক ও পশু খাদ্যের মতো আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তেরোটি পৃথক কৃষি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে লভ্যাংশ সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার একটি চমৎকার বিপণন ব্যবস্থাও তিনি ইতিমধ্যে চালু করেছেন। আগামীতে এই বিশাল কৃষি এলাকাকে একটি কৃষিভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র বা এগ্রো ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে দর্শনার্থীরা প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ ও কৃষকদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। তার মূল লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা তৈরি করা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন