সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
উচ্চমূল্যের নতুন ফল

মিষ্টি চায়না জাম্বুরা চাষে বছরেই ফলন চুয়াডাঙ্গায়

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

মিষ্টি চায়না জাম্বুরা চাষে বছরেই ফলন চুয়াডাঙ্গায়

চারা রোপণের মাত্র এক বছরের মাথায় মিষ্টি চায়না জাতের জাম্বুরা ফলিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের কৃষক সজল আহমেদ । দুই বছর বয়সী গাছে এখন প্রচুর ফল ঝুলছে । দেশীয় জাতের মতো এতে কোনো টক স্বাদ নেই, বরং শাঁস অত্যন্ত রসালো ও মিষ্টি । খোসা পাতলা হওয়ায় ফল কাটলেই ভেতরের রসাল অংশ সহজে বের হয়ে আসে ।

ফলনের এমন দৃশ্য এখন স্থানীয়দের নজর কাড়ছে ।

সজল আহমেদের কাছে জাম্বুরার আট থেকে নয়টি জাত থাকলেও চায়না জাম্বুরাকে তিনি ফলন ও স্বাদে সবচেয়ে এগিয়ে রাখছেন । প্রায় পাঁচ বছর আগে ঢাকার বসুন্ধরা শপিং মলে গিয়ে প্রথম এই ফলের দেখা পান তিনি । সেখানে চীন থেকে আমদানি করা ফলের গায়ে পাতা লাগানো ছিল এবং দেখতে অনেকটা প্লাস্টিকের মোড়কজাত ফলের মতো চকচকে সোনালি রঙের ঠেকছিল । তখনকার হিসাবে ৩৫০ টাকা কেজি দরে তিন কেজির একটি জাম্বুরা কিনেছিলেন এক হাজার ৫০ টাকায় । সেই স্বাদ মনে ধরে যাওয়ায় পরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে যুক্ত এক স্বজনের মাধ্যমে চীন থেকে অল্প কিছু সায়ন সংগ্রহ করেন  সেই ডাল থেকে ৩০টি কলম চারা তৈরি করা হয় । টিকে থাকা ১২টি চারার মধ্যে দুটি নষ্ট হয়ে বর্তমানে ১০টি গাছ পুরোপুরি সতেজ রয়েছে ।

এই ১০টি পরীক্ষামূলক গাছেই দারুণ ফলন এসেছে । গাছগুলোর গড় উচ্চতা মাত্র পাঁচ ফুটের কাছাকাছি হওয়ায় পরিচর্যা ও ফল তোলা খুবই সহজ । প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ ফল পাকলে আকর্ষণীয় সোনালি বর্ণ ধারণ করে এবং ভেতরের শাঁসের রং হয় সাদাটে । কম বয়সে ফলন আসায় এটি কেবল মাঠের বাণিজ্যিক বাগানেই নয়, বরং যেকোনো ভবনের ছাদবাগানেও সহজে চাষ করা সম্ভব । সাধারণ জাম্বুরার ভেতরের আবরণে প্রচুর পুরু খোসা থাকলেও এই জাতটিতে খোসার ভাগ একেবারেই সামান্য এবং ফলের ভেতরের বীজের সংখ্যাও নগণ্য । সাধারণত ঠান্ডা, জ্বর ও ডেঙ্গু হলে শরীরের দুর্বলতা কাটাতে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জাম্বুরার রস দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে । বাণিজ্যিক আবাদে বিঘা প্রতি ১২ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে প্রায় ১০০টি চারা রোপণ করা যায় । কমলা বা মাল্টা চাষে ১৫ থেকে ২০ দিন পরপর কীটনাশক এবং নিয়মিত সার প্রয়োগের ঝক্কি থাকে । তবে এই চায়না জাম্বুরায় রাসায়নিক সার কিংবা অতিরিক্ত বালাইনাশকের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে । সাধারণ পরিচর্যাতেই গাছ তরতাজা থাকে এবং কলমের গাছ হওয়ায় অল্প বয়স থেকেই টানা ফল দিতে শুরু করে । এই ফলের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রায় বারোমাসি ফলন দেয় । এক দফার ফল সংগ্রহ শেষ হলে শীতকালেও গাছে নতুন করে মুকুল ও গুটি আসে, ফলে বছরে দুই থেকে তিনবার ফল পাওয়া যায় ।

একটি দুই বছর বয়সী গাছেই বর্তমানে প্রায় ৩০টি পর্যন্ত জাম্বুরা ধরেছে । স্থানীয় বাজারে বাগান থেকেই প্রতিটি ফল ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে । ঢাকার বড় বাজারে পাঠাতে পারলে প্রতিটি ফলের দাম মেলে প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত । ইতোমধ্যে নিজের বাগানের গাছ থেকে প্রায় এক হাজার নতুন কলম চারা তৈরি করেছেন এই কৃষক । নিজের বাগানের আয়তন আরও বড় করার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের কাছেও এসব চারা সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি ।