রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পটুয়াখালীতে প্রতিকূলতা জয় করে সমন্বিত কৃষি বিপ্লব, ড্রাগন চাষে সফল মোস্তফা জামান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৫, ০৯:৫৫ পিএম

পটুয়াখালীতে প্রতিকূলতা জয় করে সমন্বিত কৃষি বিপ্লব, ড্রাগন চাষে সফল মোস্তফা জামান

পটুয়াখালীর মোস্তফা জামান, একজন সফল সমন্বিত খামারি, প্রতিকূলতার মধ্যেও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অবলম্বন করে ড্রাগন ফল এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি তার গভীর টান ছিল।

২০০৫ সালে সৌদি খেজুর চাষে ব্যর্থ হওয়ার পর, ডক্টর আব্দুর রহিমের পরামর্শে মাত্র পাঁচটি ড্রাগন ফলের চারা দিয়ে তিনি তার নতুন যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে, প্রায় তিন একর জমির ওপর গড়ে ওঠা তার খামারে ১০০টিরও বেশি জাতের ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে, যার মধ্যে হলুদ, লাল, গোলাপি এবং পেরলা (কাঁটাযুক্ত) ড্রাগনও রয়েছে। মোস্তফা জামান তার নিজের প্রস্তুত করা কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) ব্যবহার করেন, যা তার গাছের স্বাস্থ্য এবং ফলের গুণগত মান বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তার খামারের ড্রাগন ফল প্রতি মাসে একবার সংগ্রহ করা যায় এবং তিনি অনলাইনে প্রতি কেজি ২২০ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা স্প্রে ব্যবহার করেন না, যা তার ফলের প্রাকৃতিক স্বাদ ও মান নিশ্চিত করে। তিনি বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সমালোচনা করে বলেন, তারা টনিক ব্যবহার করে ফল বড় করলেও তা স্বাদে মিষ্টি হয় না এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, একটি ড্রাগন ফল যখন ২০০ গ্রাম হওয়ার কথা, সেখানে টনিক ব্যবহার করে ৫০০ গ্রাম করা হলে, সেটি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে।

ড্রাগন ফল ছাড়াও তিনি মালচিং পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, তরমুজ এবং অন্যান্য সবজি চাষ করছেন। মালচিং পেপার ব্যবহার করার কারণে অতিবৃষ্টিতেও তার সবজি গাছগুলো অক্ষত থাকে। এই পদ্ধতি তিনি চুয়াডাঙ্গা ও যশোর অঞ্চলে কৃষি প্রশিক্ষণ থেকে শিখেছেন। তিনি নিজের নার্সারিতে কোকো-পিট ও ভার্মিকম্পোস্ট দিয়ে চারা তৈরি করেন, যা অনেক স্বাস্থ্যবান হয়। তরমুজও তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন, বিশেষ করে বর্ষাকালীন তরমুজ।

মোস্তফা জামান জানান, তার এই সমন্বিত কৃষি খামার থেকে ভালো আয় হয় এবং এটি তার পরিবারের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করে। একসময় মানুষ তাকে 'পাগল' বললেও, তার প্রথম গাছে ফল আসার পর থেকে এলাকার মানুষ তাকে দেখে উৎসাহিত হয়েছে। অনেকেই তার কাছ থেকে চারা এবং পরামর্শ নিয়ে ড্রাগন ফলের বাগান করেছেন। তার মতে, ছোট জায়গায় সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করলে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব। দীপ্ত কৃষি আশা করে, মোস্তফা জামানের এই খামার দেশের আরও অনেক কৃষককে অনুপ্রাণিত করবে।