অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ১০:৪৭ এএম
কুমিল্লার গোমতী নদীর একসময়ের বিস্তীর্ণ বালুচর এখন সবুজের গালিচায় পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে কোথাও সাদা মুলা, কোথাও গোল আলু, আবার কোথাও চোখ ধাঁধানো লালশাকের লালচে আভা। চরের বাতাসে এখন মিশে আছে মাটির সোঁদা ঘ্রাণ আর কৃষকের পরিশ্রমের ঘাম। এই বালুচরেই নানান জাতের সবজি ফলিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলছেন স্থানীয় বহু কৃষক। তেমনই একজন সফল কৃষক হলেন কুমিল্লা সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের শাহ আলম। তিনি প্রায় ত্রিশ বছর ধরে গোমতীর এই চরে কৃষিকাজ করছেন।
চলতি মৌসুমে শীতের আগাম ফসল হিসেবে তিনি মুলার পাশাপাশি প্রায় ৩৫ শতাংশ জমিতে লালশাকের আবাদ করেছেন। জমি প্রস্তুত করা, উন্নতমানের বীজ, সেচ এবং সার বাবদ তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় দশ হাজার টাকা। ফলন এত ভালো হয়েছে যে, ইতিমধ্যে স্থানীয় পাইকাররা সরাসরি তার ক্ষেত পরিদর্শন করে ৯০ হাজার টাকায় সম্পূর্ণ শাক কেনার জন্য বায়না করে গেছেন। আর মাত্র সাত থেকে আট দিনের মধ্যেই পাইকাররা নিজেদের শ্রমিক নিয়ে এসে ক্ষেত থেকে ফসল তুলে বাজারে নিয়ে যাবেন। এতে খরচ বাদে শাহ আলমের প্রায় ৯০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে গোমতীর চরে গিয়ে দেখা যায় এক ব্যস্ত কৃষিযজ্ঞের চিত্র। সারিবদ্ধভাবে শ্রমিকরা জমি থেকে সাদা মুলা তুলছেন। পাশে নারী শ্রমিকেরা লালশাকের জমিতে নিড়ানি দিচ্ছেন এবং কেউ কেউ আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। রংপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে আসা শ্রমিক জসিম উদ্দিন ও বিল্লাল হোসেন জানান, তারা গত ১৬ বছর ধরে এই চরের কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছেন। এই চরে কাজ করে বহু কৃষক এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন, কেউ কেউ কোটিপতিও হয়েছেন।
কৃষক শাহ আলম জানান, প্রায় দুই মাসের এই ফসলে তিন দফায় নিড়ানি দিতে হয়, এতে শাকের পাতা বড় ও রঙ গাঢ় হয়। লালশাক তোলার পর তিনি ওই জমিতেই গোল আলু ও মিষ্টি কুমড়া চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গোমতীর চরের উর্বর মাটি ও ভালো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে এখানে সবজির বাম্পার ফলন হয়। এখানকার কৃষকেরাও অভিজ্ঞ। তিনি জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করলে গোমতীর চর অচিরেই কুমিল্লার অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন