অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ১২:৩৬ পিএম
মাগুরার শালিখা উপজেলায় লতিকচু চাষ করে আলোর মুখ দেখেছেন এক প্রান্তিক কৃষক। উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের কুশখালি গ্রামের রফিকুল ইসলাম চলতি মৌসুমে ৭৩ শতক জমিতে লতিকচু আবাদ করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ফসল বিক্রির আশা করছেন। গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় লোকসান গুনলেও এ বছর আশানুরূপ ফলনে তার মুখে হাসি ফুটেছে। এই লাভজনক আবাদ দেখতে পেয়ে গ্রামের অন্য কৃষকেরাও এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছর তিনি ৭৩ শতক জমিতে লতিকচু চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে তার মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, এ বছর সব খরচ বাদ দিয়েও তিনি ভালো অঙ্কের মুনাফা ঘরে তুলতে পারবেন। লতিকচু চাষের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে চারা রোপণ করতে হয়।
কাদা-দোআঁশ মাটিতে এর ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। তবে এই চাষে প্রচুর পরিমাণে পানি ও সেচের প্রয়োজন হয়। পানি কম হলে কচুর বৃদ্ধি ও লতির ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।এই চাষে সফলতার পাশাপাশি রয়েছে যথেষ্ট পরিশ্রম। রফিকুল জানান, লতিকচু চাষে বেশ পরিশ্রম করতে হয়, বিশেষ করে ফসল উত্তোলনের সময়। জমি কাদাপূর্ণ থাকায় মাটির নিচ থেকে কচু তোলা কষ্টসাধ্য।
এ সময় ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। অনেক শ্রমিক কাদার ভেতরে নেমে কাজ করতে চান না, ফলে মাঝে মাঝে শ্রমিক সংকটও দেখা দেয়। ফসল উত্তোলনের পর তা ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়। এরপর কচুর লতি এবং মূল কচু আলাদা করে বাজারে বিক্রি করা হয়। সাধারণত কার্তিক মাসের শেষদিকে এই ফসল তোলা শুরু হয়।রফিকুল ইসলাম আরও জানান, তিনি মাগুরার বিভিন্ন হাট-বাজারে মহাজনদের কাছে পাইকারি দরে এই কচু ও লতি বিক্রি করেন। অনেক সময় মহাজনরা সরাসরি জমি থেকেও ফসল সংগ্রহ করে নিয়ে যান।
তিনি নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে এই চাষাবাদ করছেন, তবে কৃষি বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি বলে উল্লেখ করেন। মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন অবশ্য জানিয়েছেন, জেলায় লতিকচুর চাষ কম হলেও শালিখা ও শ্রীপুর উপজেলায় এর আবাদ বাড়ছে। তারা কৃষকদের এই লাভজনক চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা করছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন