অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৮:৫৮ পিএম
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মো. লুৎফর রহমান পুকুর পাড়ের পতিত জমিতে বস্তায় সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সরকারের কৃষি বিভাগের আওতায় ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে’র অধীনে লাউ চাষ করে তিনি এই সফলতা পান।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে, অল্প জমিতে ও স্বল্প ব্যয়ে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জমি সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই উপজেলায় বিকল্প চাষ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। বস্তায় চাষ এমনই এক প্রযুক্তি, যা পুকুর পাড়, বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদে সহজে করা যায়।
আধুনিক এই পদ্ধতিতে দো-আঁশ মাটি, পচা গোবর ও ছাই মিশিয়ে চারা রোপণ করা হয় এবং পুকুরের পানি দিয়েই সহজে সেচ দেওয়া যায়। উপজেলার রামচন্দ্রপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান এই পতিত জমিতে বস্তায় লাউ চাষে কৃষক লুৎফর রহমানকে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতা করছেন।
কৃষক মো. লুৎফর রহমান বলেন, "আগে ভাবতাম পুকুর পাড়ের জায়গা অকেজো। এখন দেখি এই জায়গায় সবজি চাষাবাদ করে মোটা অঙ্কের আয় হচ্ছে, যা আমার পরিবারের অর্থনৈতিক জোগান দিচ্ছে।"
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মল্লিকা রাণী সেহানবীশ জানান, বস্তায় চাষে খরচ ও শ্রম তুলনামূলকভাবে কম লাগে। আগাছা ও রোগপোকার আক্রমণ কম হওয়ায় ফলন ভালো পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে’র আওতায় বস্তায় সবজি চাষ প্রদর্শনী প্রমাণ করেছে যে, উদ্ভাবনী চিন্তা, সচেতনতা ও সঠিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষির প্রতিটি কোণে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পুকুর পাড়ের পতিত জমিতে এই লাউ চাষের প্রদর্শনী অন্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করবে এবং ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি আরও বৃহৎ আকারে সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন