অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৯:১৩ পিএম
বাংলা বর্ষপঞ্জিকা মতে বর্তমানে চলছে বাংলা সনের কার্তিক মাস। একসময় আশ্বিন ও কার্তিক মাসকে বলা হতো মঙ্গার মাস। এখন আর মানুষ এ দুই মাসকে মঙ্গা বলে না। বর্তমানে এ দুই মাস শ্রমজীবী মানুষেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই করে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে আগাম জাতের ধান কাটছেন শ্রমজীবী মানুষজন। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ।
বর্তমান বাজারে ধানের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা কৃষকের বাড়ি থেকে ধান ক্রয় করছেন মণপ্রতি ১১৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। ওই দিনেই উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ হাটে ধান বিক্রেতা কৃষক মো. শফিউর রহমান জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে বিনা জাতের ধান-৭৫ চাষ করে প্রতি বিঘায় ৩৪ মণ করে ফলন পেয়েছেন। প্রতি মণ ধান বাজারে বিক্রি করলেন ১২০০ টাকা দরে।
ওই হাটে আসা অপর ধানচাষী কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় জানান, তিনি বিনা জাতের-৭ ধান চাষ করেছেন। কিন্তু বিঘা প্রতি ৩২ মণ করে ধান পেয়েছেন। তিনি বাজারে ১১৭৫ টাকা দরে মণপ্রতি ধান বিক্রি করেছেন।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত আগাম জাতের ধানগুলো হলো বিনা-৭, ব্রি ধান-৩৩, ব্রি ধান-৫৬, ব্রি ধান-৬২, বিনা ধান-৭৫ সহ আরও নতুন নতুন জাত এবার জমিতে লাগানো হয়েছে। চারার বয়স ২৫ দিন হলেই বীজতলা থেকে তুলে জমিতে লাগানো হয়ে থাকে। এসব ধান ৯০ দিন থেকে ১১০ দিনের মাথায় জমি থেকে কেটে ঘরে তোলা যায়।
আগাম জাতের ধান চাষাবাদ করে কৃষকরা জমিতে আগাম আলু, শাকসবজি, সরিষা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ করতে পারছেন। ফলে একই জমিতে তিন ফসল আবাদ করা যাচ্ছে। ধানের দাম ও খড়ের দাম ভালো পাওয়ায় দিন দিন আগাম জাতের ধান চাষাবাদের ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই উপজেলার কৃষকরা। আগাম জাতের ধান কাটা-মাড়াই করে তারা জমিতে নতুন ফসল আবাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫,৩৪০ হেক্টর জমিতে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মল্লিকা রাণী সেহানবীশ এই প্রতিনিধিকে জানান, এ উপজেলার কৃষকরা আগام জাতের ধান চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আমরাও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। আগাম জাতের ধান চাষ হওয়ায় বাজারে চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। কৃষকরা আগাম জাতের ধান প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ করে ফলন পাচ্ছেন। আগাম জাতের এ ধরনের ধান ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে কেটে ঘরে তোলা যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন