রবিউল এহ্সান রিপন
নভেম্বর ৫, ২০২৫, ০৪:১০ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
অসময়ে কালো ও হলুদ রঙের তরমুজ চাষ করে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক সাইফুল ইসলাম রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ইউটিউবে ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ৩৩ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে এই তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তার চাষ করা তরমুজের স্বাদ নিতে ও এক নজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসছেন সাধারণ মানুষ।ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ইউটিউবে ভিডিও দেখার পর এই তরমুজ চাষে আগ্রহী হন। যেই ভাবনা, সেই কাজ।
৮০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ১২০০ তরমুজ গাছের চারা রোপণ করেন। দুর্যোগের কারণে ৪০০ গাছ তুলে ফেলতে হলেও অবশিষ্ট ৮০০ গাছে এক হাজারের বেশি তরমুজ এসেছে তার।প্রথম সপ্তাহেই ৫০ হাজার টাকা লাভকৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, ৩৩ শতক জমিতে তার ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত সপ্তাহেই তিনি ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে আরও ৭০০টির বেশি তরমুজ আছে। এসব তরমুজ আরও প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আপেল মাহমুদ জানান, তরমুজ ক্ষেতে ফল আসার পর থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক মানুষ আগ্রহ নিয়ে দেখতে আসছেন। এজন্য চাষী সাইফুল ইসলামকে পাহারা বসাতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, অসময়ে এই তরমুজ চাষ এলাকায় কৃষি বিপ্লব তৈরি করেছে এবং অনেক কৃষকই এমন চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।ক্রেতার আগ্রহ ও কৃষি কর্মকর্তার মন্তব্যতরমুজ দেখতে এসে ৩০০ টাকা দিয়ে একটি তরমুজ কিনলেন মাহিদুর রহমান। তিনি জানান, এর আগে একদিন তরমুজ কিনে বাড়িতে নিয়েছিলেন। স্বাদ পাওয়ায় দ্বিতীয়বার কিনতে এসেছেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও সদর কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাসিরুল আলম জানান, "গত ৩-৪ বছর ধরেই এ ধরনের তরমুজ চাষাবাদ হচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য সারা বছর মানুষকে তরমুজ খাওয়ানো। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও মালচিং পদ্ধতির সবকিছু সরবরাহ করা হয়েছে।"তিনি আরও বলেন, প্রদর্শনীতে কীটনাশকমুক্ত তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। সেজন্য গ্রাহকদের একটু দাম বেশি দিয়ে কিনতে হবে। আগামীতে বৃহৎ আকারে এমন তরমুজ চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে।