জুন ২২, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
বর্তমান আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষ যখন তীব্রভাবে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই স্বকীয় চিন্তা ও সৃষ্টিশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছে খুদে শিক্ষার্থী উদ্দীপ্তা রায় মহুয়া। মাত্র ১০ বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করা এই শিশু কবির বয়স এখন ১১ বছর এবং এরই মধ্যে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম মৌলিক কাব্যগ্রন্থ ‘ভোরের অন্বেষণ’।
বিশেষ এই বইটি প্রকাশের সার্বিক দায়িত্বে ছিল ঐতিহ্যবাহী ‘অন্বেষণ পাবলিকেশন্স’।খুদে কবি উদ্দীপ্তা যখন সেন্ট ম্যাথিউস ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখন থেকেই মূলত তার এই কাব্যিক প্রতিভার বিকাশ ঘটে। স্কুলে পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ, আবৃত্তি, খেলাধুলা, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তার অসাধারণ আচরণ ও মেধা শিক্ষকদের গভীরভাবে বিমোহিত করেছে।
বয়স অনেক ছোট হলেও তার গভীর চিন্তা-চেতনা ও লেখার শৈলী বড়দেরও নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। ফলে তার চমৎকার এই সৃষ্টিশীল কাজগুলো ইতিমধ্যেই পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে।নিজের ‘শিশুকাল’ নামের একটি কবিতায় মহুয়া তার মায়ের বকুনি, বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা, মারামারি, মেলায় বেড়ানো এবং দল বেঁধে কাজ করার মতো শৈশবের মধুর স্মৃতিগুলো চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
আবার অন্যদিকে ‘সমাজ’ নামের কবিতায় যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অনাচার ও বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সে নতুন এক ভোরের স্বপ্ন দেখিয়েছে। গ্রামীণ প্রকৃতির রূপ, পাখির ডাক, বুনোলতা, দাদির হাতের রান্না থেকে শুরু করে শহরের নাগরিক যন্ত্রণা এবং জীবনের শেষ পরিণতি অর্থাৎ মৃত্যুর মতো গভীর বিষয়গুলোও তার লেখনীতে এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
কালের স্রোতে মানুষ যখন নিজস্ব ভাবনার জগত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন খুদে এই কবির কবিতা অন্ধকার সমাজে আলোর পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থ-সম্পদের মোহ ছেড়ে মানবজীবনের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এই খুদে আহ্বান পাঠকদের নতুন ভোরের সন্ধান দিচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন