অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ফাঁসের পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, দেশত্যাগের ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। তবে মৃত্যুর কয়েক মাস আগে একটি সরাসরি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এই দাবিকে প্রমাণহীন অভিযোগ বলে নিজেই নাকচ করেছিলেন তাহসিফ।
মরদেহ উদ্ধারের পর তৈরি হয়েছে নানা রহস্য।
গত ২১ জুলাই স্পিক উইথ রশিদ নামের একটি প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে নিজের চাকরি ও বিমানবাহিনীর কর্মজীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তাহসিফ সাউরি। সে সময় তাকে জড়িয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে উপস্থাপক জানতে চান, দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে যে প্রচার চলছে তার ভিত্তি কী। জবাবে তাহসিফ জানিয়েছিলেন, সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়াই লেখা হয়েছে যে তিনি ভিডিওটি ছড়িয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও অন্য একজনের নাম এসেছে এবং তিনি যদি ভিডিও করেও থাকেন বা ছড়িয়েও থাকেন, তার কোনো দালিলিক প্রমাণ কারও কাছে নেই। এই ভিত্তিহীন অভিযোগের জেরেই তাকে বিমানবাহিনী ছাড়তে হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তখন সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
উপস্থাপক সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন, ভিডিও ধারণ ও ফাঁসের অভিযোগেই তাকে বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল কি না। এর উত্তরে তাহসিফ বলেছিলেন, তৎকালীন সময়ে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার প্রেক্ষাপটে হয়তো এমনটি ঘটতে পারে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ও কিছু নিজস্ব অপরাগতার কারণে সব কথা বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
তাহসিফ বেঁচে থাকতে বিষয়টি নিছক অভিযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও তাঁর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন দাবি তুলেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কেএসএম ইন্তিসার ইনজিমাম। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাহসিফই শেখ হাসিনার ভিডিও ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ইনজিমাম লিখেছেন, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে তাহসিফ তাঁর সহপাঠী ছিলেন এবং পরবর্তীতে ৭৯তম বিএমএ সমমানের কোর্সে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে তারা একসঙ্গে জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স সম্পন্ন করেন। তাহসিফের মরদেহের বর্ণনা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর হাতের অংশে কাদা মাখা ছিল কিন্তু শরীরের বাকি অংশ পরিষ্কার। কোনো স্পষ্ট ব্যক্তিগত বিরোধ বা দুর্ঘটনা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হলে এই মৃত্যুকে রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবেই সন্দেহ করছেন তিনি।
ইনজিমামের দাবি অনুযায়ী, ৫ আগস্টের ঘটনার পর তাহসিফকে নানাভাবে অপদস্থ করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি মামলা করা সম্ভব হয়নি। পুরো ঘটনার পেছনে হেলিকপ্টারের ভিডিও ফাঁসের সংযোগ থাকতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এর আগে গত পরশু রাতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন