রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের দাবিতে ফুলছড়িতে বিক্ষোভ

মোস্তাফিজুর রহমান

নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৬:২৮ পিএম

নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের দাবিতে ফুলছড়িতে বিক্ষোভ

ছবি-দিনাজপুর টিভি

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খাটিয়ামারী চরে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এক প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী আলোচিত  আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, তরুণ ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মীরা এই প্রতিবাদে অংশ নেন।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে সুইডেন সরকারের অর্থায়নে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং এসকেএস ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নাধীন ‘কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (ক্রিয়া)’ প্রকল্পের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা বলেন, যমুনা–ব্রহ্মপুত্র নদঘেঁষা এই অঞ্চল প্রতি বছর নদীভাঙন, অনাবৃষ্টি, খরা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে মানুষের জীবন–জীবিকা বিপর্যস্ত হলেও এখনো পর্যাপ্ত দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু–সহনশীল প্রকল্প বা সুরক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।স্থানীয় স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তাঁরা জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এক প্রতিবাদী শিক্ষার্থী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা সবচেয়ে বেশি অনুভব করি। নদীভাঙনে বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। গ্রীন হাউস গ্যাসের অতি নিঃসরণ—প্রকৃতির সঙ্গে বড় প্রহসন। জলবায়ু নয়, বদলাক ব্যবস্থা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী তরুণরা মনে করেন, প্রতি বর্ষায় নদীভাঙন তীব্র হওয়ায় অসংখ্য পরিবার উচ্ছেদ হচ্ছে এবং তারা এখনো পুনর্বাসনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরগুলোতে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তাঁদের ভাষায়, “এটি শুধু একটি প্রতিবাদ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার সংগ্রাম।”কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন এসকেএস ক্রিয়া প্রকল্পের সমন্বয়কারী লাভলী খাতুন এবং সুলতানা বাহারসহ অন্যান্য জলবায়ু আন্দোলনকর্মী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।