নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৫:১৮ পিএম
দেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে আবারও বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার রাজসিক সৌন্দর্য দেখা মিলছে। গত কয়েকদিন হেমন্তের আবহাওয়া পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত না থাকায় এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল না।
তবে হঠাৎ করেই দুদিন ধরে আবারো কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ রূপ দৃষ্টিগোচর হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সেখানে ভিড় করছেন।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোরে পঞ্চগড় করতোয়া সেতুসহ বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো এলাকা, বাংলাবান্ধা, শালবাহান ও ভজনপুরসহ জেলা শহরের বিভিন্ন স্পটে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পর্যটকরা কেউ খালি চোখে আবার কেউ মুঠোফোন ও ক্যামেরায় ধরে রাখছেন সেই অনন্য মুহূর্ত।
স্থানীয়রা বলছেন, ভোরের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘা কখনও নেয় কালচে-বেগুনি রূপ, কখনও হয় শুভ্র সাদা। দুপুরে পাহাড়চূড়ায় সূর্যের আলো পড়লে তা সোনালি রং ধারণ করে এবং বিকেলে তা কখনও লাল, কখনও বা বেগুনি আভায় পুরো দিগন্তকে রাঙিয়ে তোলে। রংপুর থেকে আসা সৌমিক জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘার রাজসিক সৌন্দর্য উপভোগ করা কপালের ব্যাপার। তিন দফায় ঘুরে এসে এবার দেখতে পেলাম।তবে পর্যটকরা বলছেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তারা তেমন পাচ্ছেন না। পর্যটন শিল্প বিকাশে সরকারিভাবে মোটেল গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, তেঁতুলিয়ায় পর্যটন শিল্প গড়ে উঠলে সমতলের চা ও ভূগর্ভস্থ পাথরের সঙ্গে এই খাত দেশের অর্থ বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
পর্যটকদের এই আবাসন সমস্যার সমাধানে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, আবাসন নিশ্চয়তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রথমবারের মতো অনলাইন অ্যাপ 'হোটেলস ডট জিওভি ডট বিডি' চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে পর্যটকরা আগে থেকেই থাকা-খাওয়ার বুকিং দিতে পারবেন এবং নির্ভরযোগ্য আবাসনের তথ্য পাবেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পর্যটকের চাপ বাড়ে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সেবা সহজ করতে আমরা এই অ্যাপটি চালু করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন