সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ৫

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৪:৫৫ পিএম

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ৫

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক এই হামলা চালায়।

এতে অন্তত ৫ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকরা বাকরুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান।

সোহাগ নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে ফুটেজ ধারণে বাধা সৃষ্টি করেন। সাংবাদিকরা তাকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানালে তিনি দুর্ব্যবহার শুরু করেন।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হঠাৎ সোহাগ ও তার সঙ্গে থাকা উশৃঙ্খল কর্মীরা ফটো জার্নালিস্ট ডালিমের ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন।

আহত সাংবাদিকরা হলেন:

ফখরুল ইসলাম (দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার ও এমআরএ সভাপতি)

মাহবুব আলম শ্রাবণ (সময়ের আলোর রিপোর্টার)

রাকিব হাসান (জাগো নিউজের রিপোর্টার)

সাইমুম মুবিন পল্লব (বাংলা নিউজ ২৪ ডটকমের রিপোর্টার)মাহমুদ আল মামুন মারুফ (ঢাকা পোস্টের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার)

শাহরিয়ার রাকিব (জাগো নিউজের ভিডিও জার্নালিস্ট)

আহত ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমার শার্ট ধরে টেনে হিঁচড়ে সব ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম—এর জবাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে সোহাগ রিপোর্টার মাহবুব আলম শ্রাবণকে সজোরে আঘাত করেন। শ্রাবণ বলেন, “ফখরুল ইসলামের ওপর হামলার পর আমরা প্রতিবাদ জানাতে যাই। সঙ্গে সঙ্গেই সোহাগ আমার ওপর হামলে পড়ে।”ঘটনার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতা হাফিজ দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)। সংগঠনটির সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন:সন্ত্রাসী কায়দায় কোনো দলের কর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাতে পারে না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যেন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব।”

সাংবাদিক নেতারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণস্থলে এমন হামলাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।