রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেল সাজানো সংসার; মা-বাবা ও শিশুর মৃত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেল সাজানো সংসার; মা-বাবা ও শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে একটি ছোট পরিবারকে ঘিরে যেখানে বাবা-মায়ের সঙ্গে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে তাদের দুই বছরের নিষ্পাপ শিশু কাজী ফাইয়াজ রিশান। 

শুক্রবার সকালে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের মোট ছয়জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানিয়েছেন যে তিনজনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হলেও বাকি তিনজন কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ওই সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। 

খবর পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা প্রথম তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তারা হলেন ৫২ বছর বয়সী মো. হারিছ, তার ১৭ বছরের ছেলে মো. রাহাব এবং ১৪ বছর বয়সী কিশোরী রোদেলা আক্তার। তাদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তিনজনের পরিচয় পাওয়ার পর এলাকায় শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে। তারা হলেন কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের দুই বছরের সন্তান রিশান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে রিজভী একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রীও একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কুমিল্লার নানুয়া দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা এই দম্পতি তাদের শিশু সন্তানকে নিয়ে উত্তরার ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুনের তাপে তারা দগ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি তবে ফায়ার সার্ভিসের একটি তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা গ্যাস লিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়টি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই করুণ মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।