মার্চ ১৩, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার যাবতীয় নথিপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে হরিপুর ইউএনও কার্যালয়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। অভিযোগের তির হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ইউএনও কার্যালয় ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগের লক্ষ্যে যথাযথ নিয়ম মেনে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদসহ নিয়োগ কমিটির সদস্যরা ইউএনও’র কক্ষে বসে ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এমন সময় উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দীন একদল সহযোগী নিয়ে ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করেন এবং এক পর্যায়ে নিয়োগ পরীক্ষার সকল নথিপত্র ও আবেদনপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম বলেন, "যথাযথ নিয়ম মেনে নিয়োগ পরীক্ষা শেষে ভাইভা শুরু হওয়ার কথা ছিল। এমতাবস্থায় বিএনপি সভাপতি ও তার সহযোগীরা আমার রুমে আসেন এবং একটি `মব` সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। এটি সরকারি কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দীন দাবি করেন, "আমরা কোনো কাগজ নিয়ে আসিনি। ওই প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগের এবং নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল আওয়ামী লীগের লোকদের। আমাদের ছেলেরা এসব বলতে গেলে ইউএনও সাহেব খারাপ আচরণ করেন। ইউএনও জামায়াতের লোক। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।"
মেদনিসাগর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ জানান, ৮ জন পরীক্ষার্থীর লিখিত পরীক্ষা শেষে ভাইভার জন্য তারা অপেক্ষা করছিলেন। ছিনতাই হওয়া নথিপত্র উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন