সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পটিয়ায় বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ১৫

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৮, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

পটিয়ায় বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ১৫

দুর্ঘটনাকবলিত বাস

চট্টগ্রামের পটিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীবাহী তিনটি বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার আঠারো মার্চ সকাল দশটার দিকে উপজেলার জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় মার্সা ও ঈগল পরিবহনের বাসের মধ্যে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাঁশি মোহন দাশ নামে পঞ্চাশ বছর বয়সী এক যাত্রী প্রাণ হারান। 

নিহত ব্যক্তি লোহাগাড়ার পুটিভিলা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় যা নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে ও পটিয়া থানা পুলিশকে দীর্ঘ সময় বেগ পেতে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী মার্সা পরিবহনের একটি বাস জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা খড় থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়ার কবলে পড়ে। ধোঁয়ার কারণে সামনের পথ দেখতে না পেয়ে চালক হঠাৎ হার্ড ব্রেক করেন। 

এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা লোহাগাড়ামুখী ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা ঈগল পরিবহনের আরও একটি বাস দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলোকে ধাক্কা দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে তিনটি বাসের চালক ও যাত্রীসহ মোট পনেরোজন মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন।স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া রওশন জানান আহতদের মধ্যে নয়জনকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। 

সেখানে ঈগল পরিবহনের যাত্রী বাঁশি মোহন দাশকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের মধ্যে জয়নাল আনোয়ার তাহেরসহ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাশেদ বড়ুয়া জানান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে রাস্তার পাশের খড়ের স্তূপ থেকে নির্গত অতিরিক্ত ধোঁয়াকেই দায়ী করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পানি ছিটিয়ে সেই ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আনেন। পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান দুর্ঘটনাকবলিত বাসগুলো জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুপুরের পর থেকে মহাসড়কে যানজট কিছুটা কমতে শুরু করলেও যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লেগেছে।