মার্চ ২০, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বাইরে চাঁদপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, নওগাঁ, ফরিদপুর ও মৌলভীবাজারসহ বেশ কিছু এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয় পীর ও ধর্মীয় নেতাদের নির্দেশে এসব এলাকার মুসল্লিরা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের একদিন আগে এই উৎসব পালন করছেন।
শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও মতলবসহ প্রায় ৪০টি গ্রামে আজ ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে ইমামতি করেন পীরজাদা ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী। তিনি জানান মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার পর শরীয়াহসম্মত নিয়মেই তারা আজ ঈদ পালন করছেন। একইভাবে দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলাসহ মোট ছয়টি উপজেলায় আজ ঈদের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বড় জামাত আয়োজনের পাশাপাশি চিরিরবন্দর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ ও বিরল উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মুসল্লিরা জামাতে অংশ নেন।বগুড়া জেলার গাবতলী, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কয়েকটি গ্রামে নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় প্রায় ১১ বছর ধরে এই রীতি পালিত হয়ে আসছে। সেখানে নজিপুর পৌর এলাকায় অর্ধশতাধিক মুসল্লি আজ সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার অন্তত নয়টি গ্রামে কয়েকশ ধর্মপ্রাণ মানুষ আজ ঈদের উৎসবে মেতেছেন। স্থানীয়দের মতে উপজেলার শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নের কাঁটাগড়সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ পালনের এই ধারা চলে আসছে।উত্তরবঙ্গের জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় এবং দক্ষিণবঙ্গের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরেও আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঝালকাঠির রাজাপুরে ডহরশংকর এলাকার প্রায় ৪৫টি পরিবার আজ সকাল সোয়া আটটায় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন। মৌলভীবাজার শহরেও একদল মুসল্লি সার্কিট হাউস এলাকায় একত্রিত হয়ে ঈদের জামাত শেষ করেছেন। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কলাদিয়া গ্রামেও আজ ঈদের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) জামে মসজিদে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন।
সাধারণত সৌদি আরবে চাঁদ দেখার তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রামগুলোর মানুষ রোজা শুরু এবং ঈদ উদযাপন করে থাকেন। যদিও দেশের সিংহভাগ মানুষ আগামীকাল শনিবার ঈদুল ফিতর পালন করবেন তবে এই অঞ্চলগুলোতে আজই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই ভিন্ন রীতির ঈদ উদযাপন নিয়ে প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন