রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

নীলফামারীতে রেললাইন কাটল দুর্বৃত্তরা; দুর্ঘটনার শঙ্কা

মো. শহিদুল ইসলাম

এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

নীলফামারীতে রেললাইন কাটল দুর্বৃত্তরা; দুর্ঘটনার শঙ্কা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীর পলাশবাড়ী রেল ঘুন্টি এলাকায় রেললাইন কেটে ফেলায় বড় ধরণের নাশকতার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও সৌভাগ্যক্রমে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে নীলসাগর এক্সপ্রেস। সময়মতো রেললাইন কাটার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ায় কয়েকশ যাত্রীসহ ট্রেনটি এক নিশ্চিত বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। 

শুক্রবার এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা রেললাইনের একটি অংশ বিশেষ কৌশলে কেটে নিয়ে যায়। 

বিষয়টি রেলওয়ের নজরদারি দল বা স্থানীয়দের নজরে আসার পরপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে নিরাপদ দূরত্বে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। এর ফলে একটি বড় ধরণের প্রাণহানি ও যান্ত্রিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় রেলওয়ে বিভাগ।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ পুরোদমে চলছে। মেরামত কাজ চলাকালীন ওই রুটে ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কারিগরি ত্রুটি দূর করতে সেখানে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

নাশকতার এই ঘটনার পর নীলফামারীর রেলওয়ে ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। কারা এই রেললাইন কাটার সাথে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এই ধ্বংসাত্মক কাজ করা হয়েছে, তাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পলাশবাড়ী রেল ঘুন্টি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। 

রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে এবং রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো খবর না মিললে এটি একটি বড় ট্র্যাজেডিতে রূপ নিতে পারতো। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।