এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই পাওয়ার প্ল্যান্টের সচল থাকা সর্বশেষ ইউনিটটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে প্ল্যান্টের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো এই কেন্দ্রে গত কয়েক বছর ধরেই পর্যায়ক্রমে বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সংস্কারকাজের অযুহাতে ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে অর্থাৎ দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে।
এরপর থেকে কর্তৃপক্ষ মূলত ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করে আসছিল। তবে সচল থাকা এই ইউনিট দুটিও নিয়মিত বিরতিতে কারিগরি জটিলতার মুখে পড়ছে।বিগত কয়েক বছরের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই কেন্দ্রটিতে ত্রুটির ঘটনা এখন নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি এবং অক্টোবর মাসেও বয়লারের লিকেজ, পাইপ বা টিউব ফেটে যাওয়া এবং টারবাইনের সেন্সর নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায় কেন্দ্রটির উৎপাদন কয়েক দফা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
৩ নম্বর ইউনিটে ইতিপূর্বেই সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং এবার ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে পুরো প্ল্যান্টটি এখন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। উত্তরের জেলাগুলোতে যখন সেচ ও গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে এমন বিপর্যয়ে স্থানীয় কৃষকরাও গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটের ত্রুটি সারিয়ে তোলার জন্য প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেছেন। তবে ঠিক কত সময়ের মধ্যে এটি পুনরায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা ব্যবহার করে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় বলে এটি উত্তরবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারবার যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কেন্দ্রটির সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও বিশেষজ্ঞ মহলে নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিভ্রাটের শঙ্কা কাটছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রুটি মেরামত করে ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার ছাড়া এই কেন্দ্র থেকে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন