এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের পাহাড়ি পাড়াগুলোতে ঘরে ঘরে হাম ছড়িয়ে পড়েছে। ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রতিটি পরিবারের শিশুরা এখন জ্বর ও হামের উপসর্গে ভুগছে। ভৌগোলিক দুর্গমতা আর আর্থিক সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭১ জন চিকিৎসা নিয়েছে এবং ২৯ জন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে। নেপিউ পাড়ার ১৭টি পরিবারের মধ্যে ১৬ জন শিশু-কিশোর আক্রান্ত হয়েছে।
চেয়ারম্যান পাড়ার ১৮টি পরিবারের মধ্যে রোগীর সংখ্যা ১৬ জনের বেশি। এছাড়া রিংলক পাড়ায় ৪০ জনের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত বলে জানা গেছে।কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী রুইলুই ম্রো জানান, তার চার নাতির সবার শরীরে জ্বর ও হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
আট দিন ধরে তারা অসুস্থ থাকলেও হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তারা ঘরেই পরিচর্যা করছেন। নেপিউ পাড়ার বাসিন্দা রেংপোয়াইং ম্রো জানান, তার গ্রামের অনেকেই অসুস্থ কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার টাকা নেই। গ্রামগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর্মী বা টিকাদান কর্মসূচি পৌঁছায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।উপজেলা সদর থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নের এসব পাড়ার দূরত্ব প্রায় ৩১ থেকে ৩৫ কিলোমিটার। আলীকদম-পোয়ামুহুরি সড়ক ধরে ২৩ কিলোমিটার যানবাহনে যাওয়ার পর মাতামুহুরী নদী পার হয়ে ১২ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে এসব পাড়ায় পৌঁছাতে হয়।
দীর্ঘ ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে নেওয়া সাধারণ পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, আর্থিক অসচ্ছলতা আর নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দুর্গম এলাকার রোগীরা হাসপাতালে আসতে পারছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ পোয়ামুহুরি ও কুরুকপাতায় দুটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, সারা দেশের মতো এই দুর্গম এলাকাতেও হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে। কুরুকপাতা বাজারে অস্থায়ী ক্লিনিক খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাসেবা ও টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন