এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১০:০৭ এএম
যশোরের কেশবপুরে বোরো ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দেড় মণ ধানের সমমূল্যে পৌঁছেছে। শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা ও সংকটের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে শ্রম বিক্রি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে কেশবপুর উপজেলার মূলগ্রাম বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই শত শত কৃষি শ্রমিক কাঁচি ও বাখ-দড়ি নিয়ে হাজির হয়েছেন। উপজেলার এই বিশেষ হাটে প্রতিদিন ভোরে দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে আসেন। তারা মূলত ধান কাটা, আঁটি বাঁধা এবং ধান ঝাড়াই-মাড়াইয়ের কাজ করেন।
শ্রম বিক্রি করতে আসা আব্দুল রহিমন জানান, সকাল ৬টার দিকে তিনি হাটে এসেছেন। বাখে করে ধান বহনের জন্য তিনি ১ হাজার ৬০০ টাকা মজুরি চাইছেন। অথচ অন্য সময়ে একই ধরনের কাজের মজুরি ছিল ৫০০ টাকার কাছাকাছি। কাজের চাপ বেশি হওয়ায় মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।
শ্রমিক কিনতে আসা চাষি আলাউদ্দিন জানান, এক বিঘা জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি ২০ জন শ্রমিক নিয়েছেন। এক্ষেত্রে জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই শ্রমিকরা কাজ করবেন।স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি মণ মোটা ধান ১ হাজার টাকা এবং চিকন ধান ১ হাজার ৮০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। অন্যদিকে একজন শ্রমিকের মজুরি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
ফলে ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দিতে গিয়ে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়ছেন। কৃষক মফিজুর রহমান জানান, ধানের দাম কম থাকলেও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়েছে।কেশবপুর উপজেলা আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন জানান, বাজারে বর্তমানে মোটা ধান ১ হাজার টাকা এবং ভালো মানের চিকন ধান ১ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি এর চেয়েও বেশি হওয়ায় চাষিদের ওপর চাপ বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ বছর কেশবপুরে ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। ভরা মৌসুমে একসঙ্গে ধান কাটার চাপ ও শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় সাময়িকভাবে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন