মে ২, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
মৌলভীবাজারের হাওড় অঞ্চলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং গত কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে হাওড়পাড়ের কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধান নষ্ট হওয়া ঠেকাতে এখন প্রকৃতির সাথে এক অসম যুদ্ধে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকরা।সরেজমিনে বিভিন্ন হাওড়পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, রোদ-বৃষ্টির খামখেয়ালিপনার মধ্যেই কৃষকেরা ভিজে ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কেউ কেউ পচে যাওয়া ধান যন্ত্রের মাধ্যমে মাড়াই করার চেষ্টা করছেন। কাওয়াদিঘি হাওড়পাড়ের বিরইমাবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল মজিদ জানান, বছরের এই একমাত্র বোরো ফসল দিয়ে তাঁদের সারা বছর চলতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এভাবে জলাবদ্ধতায় সব ধান তলিয়ে যাবে তা ভাবেননি। ধানের কিছু অংশ বাঁচানোর আশায় তিনি রোদ-বৃষ্টির মধ্যেই হাওড়ে পড়ে রয়েছেন। তাঁর মতো একই অবস্থা ওই অঞ্চলের শত শত কৃষকের।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজারে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই খবরের পর কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিকের সংকট, অন্যদিকে বন্যার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ৪৩২ হেক্টর বোরো ফসল ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এদিকে হাইল হাওড় ও কাঞ্জাইর হাওড়সহ অন্যান্য হাওড়ের পানি গত দুদিন ধীরগতিতে কমতে থাকলেও ভারি বৃষ্টিতে তা পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানিয়েছেন, কাওয়াদিঘি হাওড়ের পানি নিষ্কাশনে কাশেমপুর পাম্পহাউসের আটটি পাম্পই সচল রাখা হয়েছে। পাহাড়ি ছড়া ও বৃষ্টির পানি দ্রুত হাওড়ে আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা কঠিন হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে হাওড়রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, হাওড়ে মাছ চাষে সুবিধা দেওয়ার জন্য পানি নিষ্কাশনে অবহেলা করা হচ্ছে। এর ফলে কাওয়াদিঘি হাওড়ে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি নিষ্কাশন করা না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন