রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঘুষের দরকষাকষির অডিও ফাঁস: এসআই ক্লোজড, ওসির বদলি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৭, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

ঘুষের দরকষাকষির অডিও ফাঁস: এসআই ক্লোজড, ওসির বদলি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী জব্দের ঘটনায় ঘুষের দর-কষাকষির অডিও ফাঁসের পর অভিযুক্ত কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করে নেত্রকোনা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই রদবদলের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার জানান, ওসি সিদ্দিক হোসেনকে কলমাকান্দা থানা থেকে সরিয়ে কেন্দুয়ার পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার গভীর রাতে। উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যান থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে বডি স্প্রে, শ্যাম্পু ও অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন সামগ্রী ছিল। 

এ সময় পিকআপচালক ও তার সহকারীকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়।অভিযানের পর বুধবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে শোনা যায়, কথিত চোরাকারবারি জসিম উদ্দিন এসআই আবু হানিফাকে প্রস্তাব দিচ্ছেন তাকে মামলায় না দিতে এবং জব্দকৃত মালের পরিমাণ কম দেখাতে। এর বিনিময়ে এসআইয়ের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে কথোপকথনে ওই ব্যক্তি জানান যে, ওসি স্যারও এতে বিপক্ষে যাবেন না।

অডিও ফাঁসের পর জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে জেলা পুলিশ প্রশাসন তদন্তে নামে। অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফাকে দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসির বদলির আদেশ আসে। তবে সদ্য বদলি হওয়া ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, চোরাকারবারির সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি এবং তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম খুদে বার্তার মাধ্যমে জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে কলমাকান্দা এলাকায় পুলিশের এই রদবদল নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।