রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৫৪ বছর পর ফিরলেন সাগরে হারিয়ে যাওয়া জেলে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১০, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

৫৪ বছর পর ফিরলেন সাগরে হারিয়ে যাওয়া জেলে

ফিরে আসা জেলে ছৈয়দ আহাম্মদ।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ৫৪ বছর আগে সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হওয়া এক জেলে জীবিত ফিরে এসেছেন। প্রায় পাঁচ দশক পর গত মঙ্গলবার (৫ মে) হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবিঘা গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন বৃদ্ধ ছৈয়দ আহাম্মদ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ৫৪ বছর আগে কুতুবদিয়া উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন ছৈয়দ আহাম্মদ। দীর্ঘ সময় তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই। ফলে স্বজনরা তাঁর শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান।

নিখোঁজ হওয়ার পর ছৈয়দ আহাম্মদ কীভাবে ভারতে পৌঁছালেন, সে সম্পর্কে পরিবার দাবি করেছে—দুর্ঘটনার পর তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন এলাকায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাটিয়েছেন। 

সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁকে উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।বাড়িতে ফিরে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর প্রথমে অনেকে বিস্মিত হন। তবে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ও আত্মীয়-স্বজনরা তাঁকে শনাক্ত করেছেন। তাঁকে একনজর দেখতে বাড়িতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় জমছে।

তবে ৫৪ বছর পর ফিরে আসার এই ঘটনায় পরিবারে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে মো. আকরাম গত শুক্রবার (৮ মে) হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আকরামের অভিযোগ, তাঁর বাবা ফিরে আসার পর চাচাতো ভাইয়েরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পারিবারিক সম্পদ ও টাকা-পয়সা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হওয়ায় তিনি পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, বৃদ্ধের ছেলে আকরাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আকরামের দাবি অনুযায়ী, তাঁর বাবা ফিরে আসার পর তাঁর কাছে থাকার কথা থাকলেও চাচাতো ভাইয়েরা তাঁকে থাকতে দিচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন এই ফিরে আসার ঘটনায় হাতিয়ার স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ফিরে আসা একজন মানুষকে কেন্দ্র করে পারিবারিক টানাপোড়েন এখন আইনি প্রক্রিয়ায় গড়িয়েছে।