রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যশোরে সাতসকালে সড়কে ঝরল ২ প্রাণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

যশোরে সাতসকালে সড়কে ঝরল ২ প্রাণ

শার্শায় সড়ক দুর্ঘটনা

যশোরের শার্শা উপজেলায় সোমবার সকালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই মোটরসাইকেল আরোহী। নাভারন সাতক্ষীরা মহাসড়কের গিলাপোল এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে যা পুরো উলাশী এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে যে নিহতরা হলেন শার্শা উপজেলার উলাশী খালপাড়ার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শাহিন হোসেন এবং একই এলাকার আতিয়ার রহমান গাইনের ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন। 

শাহিনের বয়স পঁয়ত্রিশ এবং তোফাজ্জেলের বয়স পঁয়তাল্লিশ বছর বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান শাহিন হোসেন পেশায় একজন কৃষক। আজ সোমবার সাতসকালে তিনি নিজের জমি থেকে কাঁচা মরিচ সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নাভারন বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। 

প্রতিবেশী তোফাজ্জেল হোসেনের মোটরসাইকেলে চড়ে তারা দুজনেই বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তারা যখন গিলাপোল এলাকায় পৌঁছান তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাদের সরাসরি ধাক্কা দেয়। 

ট্রাকের গতি এতই বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে মুচড়ে যায়। ধাক্কার প্রচণ্ডতায় আরোহীরা ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। রাস্তার ওপর শাহিনের সংগ্রহ করা কাঁচা মরিচগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় যা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করে।শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করতে সক্ষম হয়। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক এবং হেলপার কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

 

পুলিশ বর্তমানে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। নিহতদের পরিবারে এখন শুধু কান্নার রোল কারণ অভাবের সংসারে শাহিন তার ফসলের ওপর ভরসা করেই দিন যাপন করতেন। নাভারন সাতক্ষীরা মহাসড়কে প্রায়শই এমন অনিয়ন্ত্রিত গতির ট্রাক চলাচল করে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা এই মহাসড়কে গতিরোধক বসানোর দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন অকাল মৃত্যু আর দেখতে না হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।