মে ১১, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে চৌদ্দ বছরের এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দুই তরুণের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাতের এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা নাহিদুল ইসলাম নামে বিশ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। আটক নাহিদুল স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।
তবে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত রায়হান শেখ এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে ভুক্তভোগী কিশোরী উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তার সাথে রায়হানের কয়েক মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় শনিবার রাতে কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে এসে বেড়ানোর কথা বলে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুল। সেখানে দুই বন্ধু মিলে কিশোরীকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য তারা কিশোরীকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং রাত ১২টার দিকে তাকে এলাকায় নামিয়ে দিতে আসেন।
ওই সময় স্থানীয় লোকজন তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে গতিরোধ করে নাহিদুলকে আটক করলেও রায়হান পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। উত্তেজিত জনতা নাহিদুলকে ধরে মারধর করার পর স্থানীয় মাতুব্বরের জিম্মায় রাখেন। পরে সকালে খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।আটক নাহিদুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু রায়হান কর্তৃক কিশোরীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন তবে নিজের জড়িত থাকার বিষয়ে দাবি করেছেন তিনি কেবল চেষ্টা করেছিলেন।
এই ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে রোববার সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং আজ সোমবার আটক আসামিকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়া ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রায়হানকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন