রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যেভাবে গাজীপুরে ফাইভ মার্ডার, ফরেনসিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

যেভাবে গাজীপুরে ফাইভ মার্ডার, ফরেনসিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্ত্রী, শ্যালক এবং দুই মেয়েকে গলা কেটে এবং ছোট মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত শনিবার (০৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল বাড়ি থেকে ওই পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন— গোপালগঞ্জ সদরের শারমিন খানম (৩০), তার দুই মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (দেড় বছর) এবং ছোট ভাই রসুল মোল্লা (২৩)। তারা কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মজিবুর রহমানের বাসায় ভাড়ায় বসবাস করতেন।

চিকিৎসক মাজহারুল হক জানান, শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই শিশু মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে তাদের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পেটের খাবারসহ অন্যান্য উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওই ল্যাবের প্রতিবেদন পেলে বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পলাতক রয়েছেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে এবং পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে শারমিন খানমের বাবা বাদী হয়ে নিহতের স্বামী ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও চার জনকে আসামি করা হয়েছে। ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। ঘাতককে গ্রেপ্তারের পর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মৃতের সংখ্যা এখন ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ঘটনার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।এক জন ঘাতক কীভাবে একা পাঁচ জনকে হত্যা করল, নাকি এর পেছনে অন্য কারও সহায়তা ছিল—তা নিয়ে তদন্ত চলছে।