মে ১৩, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়া পানিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বোরো ধানসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়ন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত থেকে এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। রাত বাড়ার সাথে সাথে মেনংচরি ও বোরাঘাট নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে।
এতে কালিয়ানি কান্দা, বোয়ালমারা, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটাসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া হালুয়াঘাট পৌর শহরের নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা দেখেন বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি ঢুকে গেছে।
শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকশ পরিবার। অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। ফসল কাটার আগ মুহূর্তে পাহাড়ি ঢলে জমির পাকা ধান ও অন্যান্য রবি ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আ. রশিদ বলেন, "রাত বাড়ার সাথে সাথে বোরাঘাট নদীসহ আশপাশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ঘরবাড়ি ও ফসলের খেতে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দুটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এবং দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, "পাহাড়ি ঢলের পানির গতি ও প্রবাহ আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও এলাকাবাসীর দাবি, এখনো সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন