শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আপনাদের বিচার করার রেকর্ড নাই, স্ট্যাম্পে লিখিত নেবেন?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২১, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

আপনাদের বিচার করার রেকর্ড নাই, স্ট্যাম্পে লিখিত নেবেন?

বিচার চেয়ে আক্ষেপ

রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বিচার পাওয়া নিয়ে চরম সংশয় ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিচারের কোনো নজির বা রেকর্ড কি আছে? তিনি এমনও বলেছেন, চাইলে স্ট্যাম্পে লিখে দিতে পারেন যে এই ঘটনার বিচার হবে না।

শোকে পাথর হয়ে যাওয়া বাবা এখন বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়ে আর ফিরে আসবে না তা জানি। কিন্তু আপনারা কি বিচার করতে পারবেন? কোনো এক্সাম্পল বা উদাহরণ কি দাঁড় করাতে পারবেন? তিনি আরও বলেন, তার বয়স ৫৫ বছর, অথচ এই দীর্ঘ সময়ে এমন নৃশংসতার কোনো দৃষ্টান্ত তিনি দেখেননি। 

তার দাবি, ১৫ দিন পর আরেকটি বড় ঘটনা আসবে এবং এটি ধামাচাপা পড়ে যাবে।বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের বিশ্বাসের এই সংকট এখন প্রকট।মঙ্গলবার পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। 

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল। সে জানায়, ইয়াবা সেবনের পর সে এই নৃশংসতা চালায়।শিশুটির মৃত্যুতে গোটা দেশ স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ।জবানবন্দিতে সোহেল স্বীকার করেছে, রামিসার মা যখন বাসার দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, ঠিক তখনই সে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করতে সে মাথা শরীর থেকে আলাদা করে এবং সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। 

এরপর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে। অথচ এসব কিছুর পরও রামিসার বাবার মনে হচ্ছে, আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে না।দাফন শেষে এখন বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবারটি।বুধবার এশার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের শিয়ালদী গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে রামিসাকে সমাহিত করা হয়। সেখানেও স্বজন ও স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে শোকের আবহ ছিল। 

কিন্তু স্থানীয় ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি থাকলেও বাবার মনে এই ব্যবস্থার প্রতি কোনো ভরসা নেই। এটি একটি সাধারণ হত্যা নয়, বরং মানবতার ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন সবাই।আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে।

পুলিশি আবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। কিন্তু বিচার পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা আর অতীতের অভিজ্ঞতায় রামিসার বাবা এখন বিচারহীনতার শঙ্কা করছেন। তার এই দীর্ঘশ্বাস আমাদের আইনি ও সামাজিক বিচার ব্যবস্থার দৈন্যদশাকেই আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এলো।