রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সে.মি. নিচে, ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২০, ২০২৬, ১১:২২ এএম

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সে.মি. নিচে, ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এলাকায় তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বর্তমান বিপৎসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে। পানি যেভাবে প্রবল গতিতে বাংলাদেশের দিকে আসছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেচ প্রকল্পের ৪৪টি গেট সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে।আজ শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে যে বিগত কয়েক দিন ধরে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়াই এই পানি বৃদ্ধির মূল কারণ। 

পানির প্রবাহ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীপাড়ের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে এই নদী বয়ে যাওয়ায় সামান্য পানি বাড়লেই গোটা জেলার সব উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ও প্লাবনের শঙ্কা দেখা দেয়।স্থানীয় গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক আলী জানিয়েছেন যে উজান থেকে প্রচুর পানি আসার কারণে নিচু এলাকায় যেকোনো সময় পানি ঢুকতে পারে।

দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৪৪টি জলকপাট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন যে উজান থেকে অনবরত পানি আসায় নদীর পানি বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি এই প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিকভাবে নদীর পানিপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় জনগণকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।