রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কুড়িগ্রামে চার নদীর ভাঙন দিশেহারা নদীতীরের মানুষ

জয়ন্ত কুমার জয়

জুলাই ৪, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

কুড়িগ্রামে চার নদীর ভাঙন দিশেহারা নদীতীরের মানুষ

ছবি : দিনাজপুর টিভি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং নদ-নদীর পানি বাড়ায় কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত দেড় শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ভাঙনের মুখে থাকা আরও হাজারো পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদটির পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নদীভাঙন ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার ৪০টি ভাঙনপ্রবণ স্থানের মধ্যে ৩০টিতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে নদীতীর রক্ষার কাজ চলছে। বর্তমানে ঝুঁকি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

সদর, ফুলবাড়ী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাট উপজেলার প্রায় ৪০টি স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জানান, প্রতি বর্ষায় নদীভাঙন তাদের জীবনে নতুন দুর্ভোগ নিয়ে আসে। তারা এখন স্থায়ী নদীশাসন ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই ঘর সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।