রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

ভারতের উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি প্রবেশ করায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা এখন বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উত্তরাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে তিস্তা নদীর কিছু পয়েন্টে স্বল্প মেয়াদে বিপৎসীমা অতিক্রমের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিস্তার পানি বাড়ায় লালমনিরহাটের সদর উপজেলার কালমাটি ও খুনিয়াগাছ, আদিতমারীর মহিষখোচা ও গোবর্ধন, কালীগঞ্জের ভোটমারী ও কাকিনা এবং হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ও সিংগীমারীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকার নদীতীরবর্তী পরিবারগুলো পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। অনেক স্থানে ফসলি জমি ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে। ভারত থেকে পানি ছাড়া এবং প্রবল গতিতে তিস্তার পানি ধেয়ে আসার কারণে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নদীপাড়ের অধিবাসীরা কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া পানি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বন্যার হাত থেকে বাঁচতে এবং নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। ডালিয়া ও লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় তারা সতর্ক রয়েছেন।