রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁও ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের আমৃত্যু, ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

ঠাকুরগাঁও ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের আমৃত্যু, ৩ জনের যাবজ্জীবন সাজা

ছবি - সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রায় ১৫ বছর পর মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডিতদের সম্পত্তি বিক্রিরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার ইউনুস কসাইয়ের ছেলে আনিস রানা, মুসলিমনগর এলাকার মাইরুদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং ভোট কসাইয়ের ছেলে মো. দুলাল। আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। এদের মধ্যে আনিস রানা পলাতক রয়েছেন।যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, পৌর শহরের মুসলিমনগর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে আনিছুর, বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো. খতিবুর খতু এবং বজলুর ছেলে মো. লালু। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় এক বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঠাকুরগাঁও–পঞ্চগড় সড়কের পাশে এনামুল পেট্রোলপাম্পের পেছনের নির্জন এলাকায় কয়েকজন যুবকের কবলে পড়েন। সেখানে তাকে জোরপূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনজন পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন এবং অপর তিনজন এই ঘটনায় সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়রা ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ঘটনার কয়েকদিন পর ভুক্তভোগীর বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেন।রায়ে আদালত বলেছেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(ক) ধারার সুবিধা পাবেন না। তারা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশনের সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন না।

দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আপিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ওই অর্থ আদায় করা হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন।রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল। রায়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।