অক্টোবর ৫, ২০২৫, ১০:২২ এএম
সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে চলন্ত প্রাইভেটকার থামিয়ে দুধর্ষ ডাকাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ এখনো অন্ধকারে। মহাসড়কে পুলিশের চারটি টহল দল দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সবার চোখ এড়িয়ে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ভুক্তভোগীর খোঁজ ও ডাকাতদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কের ঝাঐল ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একদল সশস্ত্র ডাকাত একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে লুটপাট চালায়। এ সময় পেছনের আরেকটি গাড়িতে থাকা ফজলে রাব্বি নামের এক ব্যবসায়ী ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে আপলোড করলে তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন এবং এক ডাকাত পাঞ্জাবি পরিহিত বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করছে। এ সময় পাশ দিয়ে অন্যান্য যানবাহন চলে গেলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।
এই ঘটনায় পুলিশ দিনভর অনুসন্ধান চালালেও কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সূত্র ধরে সকাল থেকে তদন্ত চললেও কোনো ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেননি। ফলে ঘটনাস্থল নির্দিষ্ট করা এবং ঘটনার বিস্তারিত জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাতে দায়িত্বে থাকা একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের টহল এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় দায়িত্বরত এএসআই রমজান আলী বলেন, রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ৯৯৯ থেকে একটি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সেখানে ভাঙা কাচ ও কয়েকটি পাথর পড়ে থাকতে দেখেন, কিন্তু কাউকে পাননি। তার ধারণা, ছিনতাইকারীরা হয়তো সার্ভিস লেন ব্যবহারকারী ওই গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করেছিল।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, কোনো অভিযোগ না পেলেও এবং ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা না গেলেও ভাইরাল ভিডিওটির ওপর ভিত্তি করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন