রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কুরআন অ‍‍`বমা‍‍`ননার অভিযোগে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী গ্রেফতার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৫, ০৮:০১ পিএম

কুরআন অ‍‍`বমা‍‍`ননার অভিযোগে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী গ্রেফতার

ছবি - সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষা অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। এই ঘটনাটি শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত করেনি, বরং বাক স্বাধীনতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীর নাম অপূর্ব পাল, যিনি পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে অপূর্ব রাদ নামে পরিচিত হন। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। এই ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার দুপুরে, যখন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কোরআন অবমাননামূলক কিছু ভিডিও পোস্ট করা হয়। এই ভিডিওগুলো মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। তার অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্ম ও কোরআন নিয়ে একাধিক আপত্তিকর পোস্ট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত তার শাস্তির দাবি ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শনিবার মধ্যরাতে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষার্থীর বাসার নিচে গিয়ে শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। জনরোষ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে রক্ষা করতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, বিক্ষুব্ধ জনতার চড়াও হওয়ার কারণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আহত হন এবং বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে:
প্রথমত, ধর্মীয় অনুভূতি ও স্বাধীনতার সীমা: একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বাক স্বাধীনতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দেওয়াও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য জরুরি। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যেকার সংঘাত স্পষ্ট হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়িত্ব: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো যখন বাকস্বাধীনতার মঞ্চ, তখন সেগুলোর ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের দায়িত্বশীলতা কতটা? আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচারের ফলে সমাজে যে ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়, তার দায়ভার কে নেবে?
তৃতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর এমন আচরণ তাদের শিক্ষা ও মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সহনশীলতা শেখানো কতটা জরুরি, তা এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়।

অপূর্ব রাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বা আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত নয়, কারণ এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।