অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ১১:১৩ পিএম
পর্যটকদের কাঙ্ক্ষিত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিয়ে সাম্প্রতিক ধোঁয়াশার অবসান হয়েছে। উখিয়ার ইনানী ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সম্মতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকেই সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলবে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগের নিয়মেই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে জাহাজ ছেড়ে যাবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনানী রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের যে খবর ছড়িয়েছিল, তা সম্পূর্ণ গুজব। সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই উখিয়ার ইনানী থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ইনানী সমুদ্র সৈকত এলাকাটি সরকার ঘোষিত ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)’ হিসেবে চিহ্নিত। এমন একটি পরিবেশগত সংবেদনশীল এলাকা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হলে তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারতো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যটক ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন; অর্থাৎ সকালে গিয়ে বিকেলেই ফিরে আসতে হবে। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকদের সীমিত পরিসরে দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। এরপর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পর্যটক ভ্রমণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হবে।
এছাড়াও, দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটককে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। দ্বীপের অভ্যন্তরে যেকোনো ধরনের পলিথিন বা প্লাস্টিক সামগ্রী বহন, মোটরযান ব্যবহার, বারবিকিউ পার্টি আয়োজন এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি বা মাইক ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপগুলো সেন্টমার্টিনের অমূল্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন