সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঘোড়াঘাটে ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথির পাসওয়ার্ড বহিরাগত ব্যক্তির হাতে

ফাহিম হোসেন রিজু

জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

ঘোড়াঘাটে ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথির পাসওয়ার্ড বহিরাগত ব্যক্তির হাতে

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি নথিপত্র ও ডিজিটাল সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অফিসের সহকারী তহশিলদারের ব্যবহৃত সরকারি কম্পিউটারের গোপনীয় পাসওয়ার্ড এখন এক বহিরাগত ব্যক্তির দখলে। দিনের বেলাতেই সরকারি চেয়ারে বসে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ন্ত্রণ করছেন নারায়ণ নামের ওই ব্যক্তি, যার এই দপ্তরে কাজের কোনো বৈধ এখতিয়ার নেই।

গত ১৯ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় সিংড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। অফিসে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা না থাকলেও সহকারী তহশিলদারের চেয়ারে বসে অত্যন্ত সাবলীলভাবে কম্পিউটারে কাজ করছেন নারায়ণ নামের এক যুবক। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি সরকারি কম্পিউটারের গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগ-ইন করেছেন এবং ডেটাবেসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র (ডকুমেন্ট) সংযুক্ত করছেন।

সাংবাদিকরা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‍‍`নারায়ণ‍‍` বলে পরিচয় দেন। তিনি জানান, তহশিলদার তাকে কয়েকদিনের জন্য কাজ করতে এনেছেন। তবে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি সম্পূর্ণ "আন-অফিসিয়ালি" এখানে কাজ করছেন।এ বিষয়ে সহকারী তহশিলদার মোতালেব হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, নারায়ণ তার আত্মীয় এবং ঘোড়াঘাটে বেড়াতে এসেছেন। তবে অফিস কক্ষে বসে নারায়ণের কম্পিউটারে কাজ করার ভিডিও প্রমাণ থাকার কথা জানালে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং অস্বীকার করেন।

ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আনা হলে ঘোড়াঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওছার শেখ প্রথমে জানান, তিনি বিষয়টি তহশিলদারের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন। পরবর্তীতে তিনি জানান, তহশিলদারের বক্তব্য অনুযায়ী ওই ব্যক্তি তার আত্মীয় এবং শিগগিরই এলাকা ত্যাগ করবেন।তবে প্রশাসনের এমন ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভূমি অফিস একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দপ্তর। 

এখানে জমির খতিয়ান, নামজারি ও রেকর্ড সংশোধনসহ নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। সেখানে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি কাজ করলে জালিয়াতি, তথ্য পাচার ও নথি বিকৃতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ভূমি অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কার্যকর তদন্ত না হওয়ায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।