রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাসি মাংস বিক্রির দায়ে ঘোড়াঘাটে ব্যবসায়ীর জরিমানা

ফাহিম হোসেন রিজু

মার্চ ৮, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

বাসি মাংস বিক্রির দায়ে ঘোড়াঘাটে ব্যবসায়ীর জরিমানা

কসাইকে অর্থদণ্ড প্রদান :ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অসুস্থ ও বাসি গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে লেবু মিয়া নামে এক মাংস ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার দুপুরে উপজেলার ওসমানপুর বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত লেবু মিয়া উপজেলার নুরজাহানপুর রাজবাড়ি এলাকার খাদেম আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে মাংস ব্যবসায়ী লেবু মিয়া একটি মৃতপ্রায় গরু জবাই করে দোকানে মাংস বিক্রি শুরু করেন। মাংসের অস্বাভাবিক রঙ ও মান দেখে ক্রেতাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান এবং বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, গরুটি জবাইয়ের আগেই মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল এবং এই মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. রবিউল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাংসের নমুনা পরীক্ষা করেন। 

পরীক্ষা শেষে তিনি জানান, জবাই করা গরুটি বেশ বয়স্ক ছিল। এ ছাড়া জব্দকৃত মাংসগুলো কোনোভাবেই টাটকা ছিল না। বরং সেগুলো বেশ কয়েকদিন আগে জবাই করে ফ্রিজে অত্যন্ত নিম্নমানের পরিবেশে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল এবং রোববার তা নতুন করে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।পরবর্তীতে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবানা তানজিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় পশুর যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা সনদ না থাকা এবং বাসি ও অস্বাস্থ্যকর মাংস বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে কসাই লেবু মিয়াকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. রবিউল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। পরীক্ষায় এটি সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মাংসগুলো ফ্রিজে সংরক্ষিত ও নিম্নমানের ছিল। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ীদের সরকারি নিয়ম মেনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ নিয়ে পশু জবাই করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।