মার্চ ২১, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে আজ শনিবার অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই বৃহৎ জামাতে দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নেন।
রাতভর বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় মুসল্লির উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ময়দান অভিমুখে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নামে। কিশোরগঞ্জ, বাগেরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও এমনকি ঢাকা ও গাজীপুর থেকেও অনেক মুসল্লি এই ঐতিহাসিক ময়দানে নামাজ আদায় করতে আসেন।
এবারের ঈদ জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় ইমাম সমিতি দিনাজপুরের সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে বিশেষ খুতবা প্রদান করা হয় যেখানে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এরপর দীর্ঘ মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নির্যাতিত মুসলমানদের মুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মার শান্তি ও সুস্থতা কামনা করা হয়। বৃহৎ এই জামাত শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অংশ নেন স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে মানুষের এই ভালোবাসা ও আস্থাই তাঁর কাজের প্রধান শক্তি। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের এই মিলনমেলা যেন মানুষের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। ময়দানের কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন যে আগামীতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে আরও সুন্দর পরিবেশে নামাজের ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসাস মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সফলভাবে এত বড় জামাত সম্পন্ন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা এই বিশাল প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করতে পেরে বিশেষ স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে আসা আব্দুল ওহাব জানান যে প্রতি বছর শোলাকিয়ায় নামাজ পড়লেও এবার দিনাজপুরের এই সুবিশাল মিনারের সামনে নামাজ পড়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অত্যন্ত আবেগের ও স্মরণীয়। উল্লেখ্য যে প্রায় ২১ দশমিক ৯৯ একর আয়তনের এই ঈদগাহ ময়দানে ১৯৪৭ সাল থেকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসলেও ২০১৭ সালে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মিনার নির্মাণের পর থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রমে এবারের আয়োজনটি ছিল সুশৃঙ্খল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন