এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১২:১৪ এএম
দিনাজপুর শহরের রাজবাটি এলাকার এক মেধাবী প্রাণের প্রদীপ নিভে যেতে বসেছে অর্থাভাবে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা আর উন্নত চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন জামাল হোসেনের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩৬)। মাথায় টিউমার এবং চোখের গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন শয্যাশায়ী। দীর্ঘদিনের এই অসুস্থতা তাকে কেবল শারীরিকভাবেই পঙ্গু করেনি, বরং বর্তমানে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জহুরুল ইসলাম এক সময় দিনাজপুরের শিক্ষাঙ্গনে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াবেন এবং পরিবারের হাল ধরবেন।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি নিজেই পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার অসুস্থতা দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় চিকিৎসার খরচ জোগানো পরিবারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জহুরুলের মাথার টিউমারটি এখন অত্যন্ত জটিল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে তার দৃষ্টিশক্তি যেমন লোপ পাচ্ছে, তেমনি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারিয়ে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমানে তিনি রাজবাটি এলাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। সঠিক চিকিৎসা পেলে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা আশা দিলেও সেই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করার সাধ্য নেই তার দরিদ্র বাবার।
অসহায় এই পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের সকল হৃদয়বান ব্যক্তি, বিত্তশালী সমাজসেবক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্যের আকুতি জানানো হয়েছে। জহুরুলের বাবা জামাল হোসেন জানান, তাদের যা কিছু সম্বল ছিল তা ইতোমধ্যে ছেলের প্রাথমিক চিকিৎসায় শেষ হয়ে গেছে। এখন কেবল মানুষের সাহায্য ছাড়া জহুরুলকে বাঁচানো সম্ভব নয়। একজন মেধাবী ছাত্রের জীবন রক্ষায় সবাই এগিয়ে এলে হয়তো জহুরুল আবারও সুন্দর পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবেন।
অসুস্থ জহুরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি যোগাযোগ নম্বর প্রদান করা হয়েছে। সাহায্য পাঠাতে বা যোগাযোগ করতে এই নম্বরে (০১৯৯৪১২০৫৭৯) নগদ এবং বিকাশ একাউন্ট খোলা রয়েছে। জহুরুলের পরিবার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে কেবল আর্থিক সাহায্যই নয়, বরং এই মানবিক আবেদনটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। আপনাদের সামান্য সহযোগিতা বেঁচে যেতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন