জুন ৭, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
ইরি-বোরো মৌসুম মানেই চালের বাজারে স্বস্তি। কিন্তু এবার সেই চিত্র নেই দেশের অন্যতম ধান উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে। ভরা মৌসুমেও চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। ঈদের পর মাত্র এক সপ্তাহে ৫০ কেজির বস্তায় ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।এতে তীব্র চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের দাবি, চালের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ চারটি—ধানের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়া, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং ঘনঘন লোডশেডিং। বাহাদূরবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে যে মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তা ৩ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৩ হাজার ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্য জাতের চালের দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। আঠাশ জাতের বস্তা ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮৫০ টাকা, উনত্রিশ জাতের চাল ২ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুমন স্বর্ণা চাল ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চিনিগুড়া চালের বস্তা ৭ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৪০০ টাকা।ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মিলগেটে দাম বাড়ায় বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। কিন্তু এই দামে বিক্রি কমেছে অর্ধেকে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০ বস্তা চাল বিক্রি হতো, এখন সেখানে পাঁচ বস্তাও বিক্রি হচ্ছে না। মানুষ এখন প্রয়োজন ছাড়া চাল কিনছে না।দিনাজপুরের প্রায় দুই হাজার চালকলের মধ্যে ৩০০টি অটোরাইস মিলে উৎপাদন কমেছে অর্ধেক।
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাস্কিং মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন।ভোক্তা আমীর হোসেন বলেন, মানুষের আয় বাড়েনি, কিন্তু সব পণ্যের দাম বাড়ছে। ভাত যদি নাগালের বাইরে চলে যায়, তবে সাধারণ মানুষ চলবে কীভাবে? উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে না এলে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন